জাতীয়

জানুয়ারী ৪, ২০১৭, ৪:২৮ অপরাহ্ন

গুলশানে দুই দিনেও আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ থামেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটের আগুন ৩৬ ঘন্টায়ও সম্পূর্ণ নেভেনি। এখনো ধ্বংসস্তুপ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে। দুই দিনেও আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ থামেনি ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। পুরোপুরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। ভেতরে ছোট ছোট আগুন রয়েছে, যাকে আমরা স্পট ফায়ার বলি। সেগুলো না ছড়ানোর জন্য আমাদের টিম কাজ করছে।

তিনি বলেন, মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই। সাতশ মিটার দূর থেকে ঝিল, লেক থেকে পানি এনে আগুন নেভাতে আমাদের লোকজন কাজ করেছেন। সেখানে সময় নষ্ট হয়েছে।

দোকান মালিকদের দাবি, পর্যাপ্ত পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও লোকবল আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়নি। ২৩টি ইউনিট আগুন নেভাতে আসার কথা বলা হলেও এক সাথে ৫টি গাড়িকেও পানি দিতে দেখা যায়নি।

কিন্তু ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের দাবি ঘটনাটি জানার পরপরই সেখানে আগুন নেভানোর কাজে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।

এদিকে বুধবার দুপুরে মার্কেটের প্রবেশ পথে আলাদা আলাদাভাবে সমাবেশ করছেন কাচা মার্কেট মালিক সমিতি ও পাকা মার্কেট দোকান মালিক সমিতি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০০ দোকান মালিক এ সমাবেশে হাজির হয়েছেন।

সমাবেশ থেকে এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও ক্ষতিগ্রস্তদের দোকান বরাদ্দ দিয়ে এরপর নির্মাণকাজ শুরুর আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির অভিযোগ তোলেন তারা। তাদের দাবি, ২২ বা ২৩টি ইউনিটের কথা বলা হলেও আসলেই এসেছিল কি না, গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তা তদন্ত করতে হবে।

এদিকে পাকা মার্কেট দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যেহেতু তাদের ভবনটি ধসে পড়েনি, তাই সে জায়গাটিকে মেরামত করে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতি দাবি জানান তারা।

সমিতির কোষাধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের একটাই দাবি, আমরা এখানে ব্যবসা করতে চাই।

মার্কেট চালুর উদ্যোগ এবং মেরামতের আর্থিক বিষয়ে তিনি বলেন, সে দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। কারণ এটি সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান।


এখনো মার্কেটের অনেক দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। যেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পানি ছিটাচ্ছেন।

বিভিন্ন দোকানি জানান, আগুনে তাদের ট্রেড লাইসেন্স, দোকানের বরাদ্দপত্র, কিছু ক্যাশ টাকা, ক্রেতাদের কাছে বাকিতে পণ্য বিক্রির কাগজপত্র সব পুড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক আগে থেকেই কর্তৃপক্ষ তাদেরকে উচ্ছেদ করার জন্য চেষ্টা করছে। এ নিয়ে মামলাও চলছে। এই অগ্নিকাণ্ড একটি ষড়যন্ত্র বলে তারা মনে করেন। এই ঘটনায় প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যাবসায়ীরা জানান।