সম্পাদকীয়

এপ্রিল ২২, ২০১৭, ৫:৩৬ অপরাহ্ন

হার্টের রিংয়ের দাম নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর হোন

নিউজপেজ ডেস্ক

২০-৩০ হাজার টাকা দামের হার্টের রিংয়ের দাম রোগীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে লাখ-দুই লাখ টাকায়। চিকিৎসক ও রিং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি রোগীরা। মেয়াদোত্তীর্ণ রিং লাগানো, এমনকি অপ্রয়োজনে রিং লাগানোরও অভিযোগ রয়েছে। এতদিন এ নিয়ে প্রশাসন ছিল নির্বিকার। এবার গণমাধ্যম সোচ্চার হওয়ায় কর্তৃপক্ষ যখন রিংয়ের দামের লাগাম টানার উদ্যোগ নিল, তখন ব্যবসায়ীরা সরকারি হাসপাতালে রিং সরবরাহ বন্ধ করে তাদের ক্ষমতা দেখাল। রিং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেটের এই দৌরাত্ম্য আমাদের হতবাক করছে।

হৃদরোগের চিকিৎসার একটা আধুনিক ব্যবস্থা হলো রোগীর ধমনীতে কার্ডিয়াক রিং (করোনারি স্টেন্ট) পরানো। দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় বড় হচ্ছে কার্ডিয়াক রিংয়ের বাজার। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে যে যেভাবে পারছে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে রিং। একটি সহযোগী দৈনিকের রিপোর্টে উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে যে কার্ডিয়াক রিংয়ের মূল্য প্রতিটি ৩৫০ থেকে ৩৯০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার দাম পড়ে ২৮ থেকে ৩১ হাজার টাকা, সেই রিং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনসহ সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় তা দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকায়ও কিনতে হচ্ছে রোগীদের। অথচ শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসব রিং আমদানি করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রিংয়ের দাম ও মান সম্পর্কে রোগীরা থাকছেন একেবারেই অন্ধকারেচিকিৎসকরা অপ্রয়োজনে রিং পরিয়ে দিয়ে রোগীকে সংকটাপন্ন করেছেন, এমন অভিযোগও রয়েছে। জানা গেছে, এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা বিচারাধীন। এ নিয়ে উচ্চ আদালতের বিশেষ নির্দেশনাও রয়েছে। তারপরও এই রিং বাণিজ্য বন্ধ হয়নি। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমতে, শতাধিক চিকিৎসক ও রিং সরবরাহকারী ২৫ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে হার্টের রিং বাণিজ্য। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরই রিং বিক্রি হয়। রোগীকে একটি রিং পরানো বাবদ ১০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসককে কমিশন দেন ব্যবসায়ীরা। এতে রিংয়ের মূল্য বেড়ে যায়। এ কমিশন বাণিজ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে। এটা কি ওষুধ প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েনি? রোগীদের অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে কি?

এখন গণমাধ্যম সোচ্চার হয়েছে। ফলে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষেরও। হার্টের রিংয়ের দাম নির্দিষ্ট করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে নাখোশ হয়ে গত ২০ এপ্রিল থেকে সরকারি হাসপাতালে রিং সরবরাহ বন্ধ রেখেছে রিং ব্যবসায়ীরা। চিকিৎসকরা অনুরোধ করেও তাদের কাছ থেকে রিং আদায় করতে পারেননি। ফলে রোগীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। কী অমানবিক কাণ্ড। এতদিন রোগীদের পকেট কেটে এখন সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখে তারা ধর্মঘটের আশ্রয় নিয়েছে। এদের এই বাড়বাড়ন্ত আমাদের বিস্মিত না করে পারে না। বলতেই হবে, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই অরাজকতা। শুধু হার্টের রিং নয়, হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পেসমেকার, বেলুন গাইডওয়্যার, ক্যাথেটার, ভাল্ব, অক্সিজেনেটর ইত্যাদি নিয়েও অবৈধ বাণিজ্য চলছে। যাই হোক, দেরিতে হলেও এ সংক্রান্ত বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জোরদার করতে হবে তদারকি। হার্টের রিংসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম যৌক্তিক মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। শাস্তির আওতায় আনতে চিকিৎসা নিয়ে সব অনৈতিক-অমানবিক তৎপরতা।


সুত্রঃ ভোরের কাগজ



নিউজপেজ২৪/ এ বি