রাজনীতি

মে ৭, ২০১৭, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

কর্মিসভায় বিএনপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে

নিউজপেজ ডেস্ক

বিএনপির তৃণমূলের কর্মিসভায় প্রায় প্রতিদিনই মারামারি-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ সংঘর্ষের মাধ্যমে প্রকাশ করছে নেতাকর্মী। কর্মিসভাকে কেন্দ্র করে পুরনো দ্বন্দ্বের রেশে নতুন করে বিভেদে জড়িয়ে পড়ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অনেক কাকুতি মিনতি করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। সংঘর্ষের কারণে তৃণমূলে সফরের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা সদর টুডে কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিনিধি সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে দলের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সভা শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক এনামের অনুসারী শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সেখানে পৌঁছে। পটিয়া উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান জুয়েলের সমর্থকরা এনামের সমর্থকদের ঘটনাস্থলে পিটিয়ে জখম করে। পিটুনি খেয়ে এনামের সমর্থকরা সভাস্থল ছেড়ে সড়কে যানবাহন ভাঙচুর করে। দুই পক্ষের ওই সংঘর্ষে অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। আগের দিন বিকালে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে মহানগর কার্যালয় নাসিমন ভবনে উত্তর জেলা বিএনপির কর্মিসভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেখানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সংঘর্ষ ব্যাপক হলে খন্দকার মোশাররফ দ্রুত মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। ফলে কর্মিসভা প- হয়ে যায়।

ঝিনাইদহ শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ৩ মে বিএনপির প্রতিনিধি সভায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠান শুরু হলে দাওয়াত না পাওয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটির শৈলকূপার ১৭ নেতার সমর্থকরা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে হট্টগোল শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ভেতরে ঢুকতে গেলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর সভায় ঢুকতে না পারা নেতাকর্মীরা কমিউনিটি সেন্টারে হামলা চালায়। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে কমিউনিটি সেন্টারের জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ সময় ইট ও কাচের আঘাতে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে থাকা ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়। গতকাল শনিবার খুলনায় প্রতিনিধি সম্মেলন চলাকালীন নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু গ্রুপের সঙ্গে সিনিয়র সহসভাপতি সাহারুজ্জমান মর্তুজা ও আরিফুর রহমান মিঠু গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সভার বাইরে বেশ কয়েকবার হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একইদিনে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিনিধিসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে ২০০৬ সাল থেকেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এ সময়ের মধ্যে দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে ৫১টি টিম। এ টিম সারা দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা সফর করবে। এ সফরকে কেন্দ্র করেই ঘটছে সংঘর্ষ-মারামারি। পরিস্থিতি সামলাতে না পারলে এর ফল কী হয় তা নিয়েই সন্দিহান কেন্দ্রীয় নেতারা।

চট্টগ্রামের দায়িত্ব পাওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, তৃণমূলের কর্মিসভায় কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বড় দলের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে একটু ঝামেলা থাকতে পারে। একে খুব বড় করে দেখার কিছু নেই। ঝিনাইদহের দায়িত্ব পাওয়া দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল) বলেন, বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। বড় দলে মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেই। আমরা এখন বিরোধী দলে। শুধু আমাদের মধ্যেই নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এর চেয়ে অনেক বেশি ঘটনা ঘটে। আমাদের কিন্তু সারা দেশে এ রকম ঘটনা ঘটছে না। যে এলাকায় এরকম হয়েছে আমরা সে সম্পর্কে দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখবেন।


নিউজপেজ২৪/ এ বি