অর্থনীতি

মে ১১, ২০১৭, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

কমানো হচ্ছে ভ্যাটের হার

নিউজপেজ ডেস্ক

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইনে কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। ২০১২ সালে পাস হওয়া নতুন এ আইন ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা ওই আইনে আপত্তি জানিয়ে সংশোধনের দাবি করে আসছেন। তাদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে এবং তা হবে অভিন্ন বা একক রেট। এছাড়া ভ্যাট পরিশোধের লেনদেনের সীমা (টার্নওভার) আরও বাড়িয়ে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ১১ অথবা ১৪ মে আলোচনার সময় ঠিক করা হয়েছে। ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে ভ্যাটের হার কমানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে নতুন মূল্য সংযোজন কর আইন ছাড়াও আয়কর ও আমদানি শুল্কে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, মূসক হারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব করা হবে। তিনি সম্মতি দিলে আইন সংশোধন করে তা কার্যকর হবে। তাছাড়া বাজেট ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংসদে ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন।

মূসক হার কমানোর বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, এসব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক। আমরা আইনটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুসারে তা বাস্তবায়িত হবে।

নতুন আইনে বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে যাদের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা, তাদের ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স এবং বার্ষিক লেনদেন ৮০ লাখ টাকার বেশি হলে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাটের লেনদেনের ক্ষেত্রে সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। সংশোধন করে বার্ষিক ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন পর্যন্ত ভ্যাটমুক্ত রাখা হতে পারে। এছাড়া টার্নওভার ট্যাক্সের ঊর্ধ্বসীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশোধনীর প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ছোট ব্যবসায়ীরা ভ্যাট পরিশোধের ক্ষেত্রে আরও সুবিধা পাবেন।

বর্তমান আইনে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া আছে। নতুন আইনে আমদানি পর্যায়ে সব পণ্যের ওপর থেকে সম্পূরক শুল্ক নেওয়ার কথা বলা হয়। দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তারা এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে দেশি শিল্প মার খাবে। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা দেওয়ায় আমদানি পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা হবে। এছাড়া করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের আগে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের ‘ভ্রাম্যমাণ ভ্যাট হেল্প ডেস্ক’ এর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, এনবিআর সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল হাসানসহ এনবিআর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করতে ঘোষিত হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে জনগণের জন্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আনা হবে। তবে হার কত হবে বলতে পারব না। সেটা বাজেটে বলব। একই সঙ্গে নতুন ভ্যাট আইনের অসংগতি দূর করতে কয়েকটি সংশোধনী আনা হবে। আইনটিকে একটি স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আনা হবে। একে সংশোধন বলা যায় কি না এর উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, একে সংশোধন বলতে পারেন। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ৪-৫ শতাংশ হারে ভ্যাটের দাবি জানিয়েছেন এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব রাবিশ প্রস্তাব। এটি কখনোই হওয়ার নয়। নতুন ভ্যাট আইন বিদেশিদের চাপে করা হয়েছে এবং বিদেশিদের খুশি করার জন্য সম্পূরক শুল্ক তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব রাবিশ কথাবার্তা। যারা এমন কমেন্টস করেছে, তারা রাবিশ।


নিউজপেজ২৪/ এ বি