অর্থনীতি

মে ১৭, ২০১৭, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

৩ মাসেই খেলাপি ঋণ ১১ হাজার কোটি টাকা

নিউজপেজ ডেস্ক

খেলাপি ঋণের খড়গে নাজেহাল ব্যাংকিং খাত। মাত্র তিন মাসেই খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আদায়ের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ঋণ নতুন করে খেলাপি হয়েছে, আগে নবায়ন করা ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করায় সেটি আবার খেলাপির তালিকায় চলে এসেছে। এছাড়া কোনো শর্তের বেড়াজালে পড়ে যাতে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ গোপন না করে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব কারণে গত তিন মাসে ব্যাংকিং খাতে এই ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি তিন মাস পরপর ঋণ পরিস্থিতি হালনাগাদ করে। ব্যাংকগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব তথ্য হালানাগাদ করে। গত মার্চের তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল খেলাপি ঋণের হালনাগাদ তথ্য চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। ওই সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

২০১৫ সালে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বেড়েছিল ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে যে পরিমাণ খেলাপি বেড়েছে, এবার তিন মাসেই সে তুলনায় বেশি বেড়েছে।

এছাড়া গত বছরে মার্চে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৩ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৩৫ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে যা ছিল ৩১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে এই খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ৪ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের মার্চে খেলাপি হয়েছে ৫ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। এই দুটি ব্যাংক ৬ মাস পরপর খেলাপি ঋণের তথ্য হালনাগাদ করে বলে মার্চের তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি বাড়ার কারণ সম্পর্কে সরকারি এক ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, মামলা থাকলেও ঋণের প্রকৃত মান দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য খেলাপি অনেক বেশি বেড়েছে।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৬৭০ কোটি কোটি টাকা। গত মার্চে তাদের খেলাপি ২৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা, ডিসেম্বর যা ছিল ২৩ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা থেকে কমে ২ হাজার ২৮২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো যে তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠিয়েছিল, সেগুলো পরিদর্শন করে আরও প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার নতুন খেলাপি সন্ধান পায়, যা ব্যাংকগুলো গোপন করেছিল। এর মধ্যে জনতা ব্যাংক ১ হাজার ৭৭১ কোটি, অগ্রণী ৯২৭ কোটি, রূপালী ৬৯১ কোটি ও সোনালী ব্যাংক ৬৮২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ গোপন করেছে।


নিউজপেজ২৪/ এ বি