জাতীয়

মে ১৮, ২০১৭, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

ঢাকা পর্যন্ত রুট সম্প্রসারণের উদ্যোগ

নিউজপেজ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান নৌ ট্রানজিট তথা নৌ প্রটোকল চুক্তি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একে বলা হয় পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি (প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড) মানে নৌপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকল। এর আওতায় বেশ কয়েকটি সংশোধনী আনা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল পর্যন্ত নৌরুট বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ভারত। এছাড়া নতুন সংশোধনীতে ভিসা ছাড়াই নাবিকরা তিন দিন অবস্থান করতে পারবেন। বর্তমানে নাবিকদের জাহাজের ভেতরেই অবস্থান করতে হয় দিনের পর দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় আমাদের সময়কে বলেন, উভয় দেশের স্বার্থে ও সম্মতিতে নৌ প্রটোকল চুক্তি পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজন করার বিধান রয়েছে। মূল এমওইউতে (সমঝোতা স্মারক) এটির উল্লেখ আছে। প্রতি এক মাস পর পরই কারিগরি বৈঠক হয়। উভয় দেশের সম্মতিসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এর আওতায় পানগাঁও পর্যন্ত নৌপথ সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। আমরাও চাই পানগাঁও বন্দরটি আরও কর্মচঞ্চল হোক। কারণ চট্টগ্রাম থেকে পানগাঁও পর্যন্ত রুটটি এখনো পুরোপুরি সচল নয়।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি নাবিকরা বাংলাদেশে এলে ভিসা না থাকায় জাহাজেই অবস্থান করেন। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংশোধিত পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি কার্যকর হলে প্রতিবেশী দেশটির নাবিকরা ভিসা ছাড়াই তিন দিন বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে যাতায়াত করতে পারবেন। বাংলাদেশের নাবিকরাও ভারতে একই সুবিধা পাবেন। এ তথ্য জানিয়ে নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, এটি একটি নতুন দিক। উভয় দেশের স্বার্থেই এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাধারণ জাহাজের নাবিকদের দীর্ঘদিন বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ভিসা ছাড়াই তিন দিন অবস্থানের সুযোগ পেলে তারা ওই সময়ে নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। মানবিক দৃষ্টিতে এটি খুব যৌক্তিক।

বর্তমানে দুই দেশের (বাংলাদেশ-ভারত) মধ্যে পাঁচটি করে বন্দর পোর্ট অব কলভুক্ত রয়েছে। নতুন বন্দর হিসেবে পানগাঁও যুক্ত হলে পোর্ট অব কলের অন্তর্ভুক্ত বন্দরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬। পানগাঁও ছাড়া বিদ্যমান বাকি পাঁচটি বন্দর হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, মংলা, সিরাজগঞ্জ ও আশুগঞ্জ। অপরদিকে ভারতে বাংলাদেশের পোর্ট অব কলভুক্ত পাঁচটি বন্দর হচ্ছে কলকাতা, হলদিয়া, করিমগঞ্জ, পান্ডু ও শিলঘাট।

সূত্রমতে, পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি চুক্তির ১১ ধারায় সংশোধনী এনে বাংলাদেশের পানগাঁও এবং ভারতের ধুবড়ি বন্দরকে পোর্ট অব কলভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে আরও দেখা গেছে, পানগাঁও বন্দরকে পোর্ট অব কলভুক্ত করায় নৌরুটেও পরিবর্তন এসেছে। তিনটি রুটে পানগাঁও বন্দর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রুটগুলো হচ্ছে এক. কলকাতা, হলদিয়া, রায়মঙ্গল, চালনা, খুলনা, মংলা, কাউখালী, বরিশাল, হিজলা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, পানগাঁও, আরিচা, সিরাজগঞ্জ, বাহাদুরাবাদ, চিলমারী, দুবরি, পান্ডু ও শিলঘাট। দুই. করিমগঞ্জ, জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, শেরপুর, মারকুলি, আজমিরিগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ভৈরববাজার, নারায়ণগঞ্জ, পানগাঁও, চাঁদপুর, হিজলা, বরিশাল, কাউখালী, মংলা, রায়মঙ্গল, হলদিয়া ও কলকাতা। তিন. করিমগঞ্জ, জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, মারকুলি, আজমিরিগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ভৈরববাজার, নারায়ণগঞ্জ, পানগাঁও, চাঁদপুর, আরিচা, সিরাজগঞ্জ, বাহাদুরাবাদ, চিলমারী, ধুবড়ি, পান্ডু ও শিলঘাট। অবশিষ্ট একটি রুটে সংগত কারণেই রাখা হয়নি পানগাঁও বন্দরটি। সেটি হচ্ছে রাজশাহী-গোদাগাড়ী-ধুলিয়ান।

প্রসঙ্গত, পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল যৌথভাবে নির্মাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, নৌ প্রটোকলের আওতায় ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয় বেশি, রপ্তানি হয় কম। নৌ প্রটোকল রুটে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ১০ লাখ ৬২ হাজার ৮৯৮ টন পণ্য পরিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজে ১০ লাখ ৫১ হাজার ২৬২ টন ও ভারতের মালিকানাধীন জাহাজে ১১ হাজার ৬৩৬ টন পণ্য পরিবহন করা হয়। ওই ছয় মাসে বাংলাদেশি জাহাজ ১ হাজার ৯১টি ট্রিপ দিয়েছে। অপরদিকে ভারতীয় জাহাজ ট্রিপ দিয়েছে ১৩টি। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশি নৌযানে পণ্য পরিবহন করা হয় ২২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭৫ টন। আর একই সময়ে ভারতীয় নৌযান দিয়ে পরিবহন করা হয় ৬ হাজার ২৫০ টন।


নিউজপেজ২৪/ এ বি