রাজনীতি

মে ২৩, ২০১৭, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

ইসলামি সংগঠন গড়ছে আ.লীগ

নিউজপেজ ডেস্ক

নতুন ইসলামিক সংগঠন গড়ার প্রস্তাব উঠেছে আওয়ামী লীগে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা নিয়েই গঠিত হবে প্রস্তাবিত ধর্মভিত্তিক প্লাটফর্মটি। এই সংগঠনের নাম, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইত্যাদি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দ্বিধাবিভক্ত ওলামা লীগসহ আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ইসলামিক সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করবে। সে ক্ষেত্রে ওলামা লীগ আর থাকবে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সম্পাদকম-লীর এক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যটি জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে দলটির সম্পাদকম-লীর সদস্যদের মধ্যে মাহবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অসীম কুমার উকিল, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইসলামিক সংগঠন গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, আওয়ামীপন্থি আলেম-ওলামারা দীর্ঘদিন মাঠে রয়েছেন। কিন্তু তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্লাটফর্ম নেই। নিজেদের মধ্যে কোন্দল এবং বিতর্কিত কর্মকা-ে ওলামা লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আওয়ামীপন্থি সব ইসলামিক শক্তি নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামিক প্লাটফর্ম গড়ে তোলা দরকার, যেটা দলের সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মতো কাজ করবে। ওই সময় বৈঠকে উপস্থিত দু-একজন নেতা শেখ আবদুল্লাহর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয় ধর্ম সম্পাদককে। ওই সময় বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইসলামিক সংগঠন হলেই হবে না, প্রগতিশীল ইসলামিক সংগঠন হতে হবে। দলের সভাপতি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আমাদের সময়কে গতকাল মুঠোফোনে বলেন, সম্পাদকম-লীর বৈঠকে ইসলামিক সংগঠন গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব রেখেছি। অনেক আগে থেকেই আমি ইসলামিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করছি। আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন না হলেও আওয়ামী ওলামা লীগ দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামীপন্থি ইসলামিক সংগঠন হিসেবে মাঠে রয়েছে। সংগঠনটি এখন দুটি ধারায় বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্ব দেন ইলিয়াস হোসেন বিন হেলালী এবং আরেক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী। দুই অংশের নেতারাই আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতাকে ‘মেইনটেন’ করেন। কিন্তু সম্প্রতি বাল্যবিবাহ আইন, পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় বিষয়, পহেলা বৈশাখ প্রভৃতি বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সারা দেশে আলোচনায় চলে আসেন সংগঠনটির দুই গ্রুপের নেতারা। শুধু তা-ই নয়, কোন গ্রুপ আসল ‘ওলামা লীগ’ এটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত বাদানুবাদ, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগের নাম ভাঙানোর জন্য সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ আসে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল থেকে। বর্তমানে এ অবস্থায়ই থমকে আছে ওলামা লীগের কার্যক্রম। কিন্তু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ওলামা লীগের নামগন্ধ মুছে ফেলে নতুন নামে একটি ইসলামপন্থী সংগঠনের আত্মপ্রকাশের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক।

দলটির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা বলেন, প্রস্তাবটি ধর্ম সম্পাদক দিয়েছেন। তবে প্রগতিশীল ইসলামিক আলেম-ওলামা-মাশায়েখ, যারা ধর্মের বাণী প্রচার ও প্রসারে কাজ করেন তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ মেনে নিয়ে কাজ করতে চাইলে করতে পারেন। কারণ ইসলামের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো বিরোধ নেই।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর সভাসূত্রে আরও জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ ধরে মাহবুব-উল আলম হানিফ সভায় বলেন, আমাদের দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় নেই। সরকারের কিছু মন্ত্রীর উল্টোপাল্টা বক্তব্যের রেশ টানতে হয় দলের নেতাদের। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কখনোই হেফাজত নেতা আহমদ শফীর সঙ্গে বৈঠক করেননি। তিনি বৈঠক করেছেন দেশের ইসলামী চিন্তাবিদদের সঙ্গে। সেখানে কওমি মাদ্রাসার নেতা হিসেবে আহমদ শফী যোগ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের কিছু মন্ত্রী এমনভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন, যাতে মনে হয় প্রধানমন্ত্রী শফীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই সময় উপস্থিত নেতাদের অনেকেই হানিফের বক্তব্যে সমর্থন জানান।

দলটির আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, তৃণমূলের সমস্যা তৃণমূলে গিয়েই সমাধান করতে হবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে তৃণমূলের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হচ্ছে না।

এদিকে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের পার্টিতে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছি। সদস্য নবায়নের সূচনাও করেছি। নবায়নের পর নতুন সদস্য অভিযান শুরু হবে। অন্য কোনো দল থেকে কেউ কোনো ইউনিটে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাইলে অবশ্যই কেন্দ্রের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কোথাও অন্য দল থেকে কাউকে আওয়ামী লীগে নেওয়া যাবে না।

দলের সবাইকে নৌকার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, এখন কেউ যেন কোথাও কোনো বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে। কেউ যেন প্রার্থিতা ঘোষণা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে পারে। অহেতুক ভালো প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ঘোষণা করে সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে, নির্বাচনকে সামনে রেখে যেন বিভেদ না হয়, সে ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এ ছাড়া আসন্ন রমজানে সাহরি, তারাবি ও ইফতারের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দলের পক্ষে অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে রজমানে যাতে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতায় মধ্যে থাকে, সে জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।


নিউজপেজ২৪/ এ বি