অর্থনীতি

মে ২৪, ২০১৭, ৩:৫৫ অপরাহ্ন

‘সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে অর্থনীতির মহাসর্বনাশ’

নিউজপেজ ডেস্ক

২০১৭-১৮ জাতীয় বাজেট নিয়ে দৈনিক আমাদের সময়ে এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় আলোচনা শুরু হয়।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অ‌ধ্যাপক এম এম আকাশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, বাজেটটা এমনভাবে করা উচিত যাতে ২০২৫ সালে জিডিপি ১০% হয়। সাড়ে ৮ লক্ষ শিল্পকারখানা নিবন্ধিত। এর মধ্যে ১ লাখের মুসক আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২ হাজার সরকারের খাতায় জমা হয়েছে। তাই আমার মনে হয় ভ্যাট নিয়ে আলোচনা করে লাভই নাই!

তিনি বলেন, সমুদ্র সীমা থেকে ভারত ও মিয়ানমার ৮০ লাখ টন মাছ আহরণ করেছে, সেখানে বাংলাদেশ আহরণ করেছে মাত্র ৭০ হাজার টন। কারণ অভাব শুধু প্রজেক্ট এবং জাহাজের। আমরা যদি নিজেদের শিল্পকে সহোযোগিতা করি তাহলে উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী।

তিনি বলেন, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে দেশের অর্থনীতির মহা সর্বনাশ হবে। তাই ভ্যাট আইন জরুরি।

ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত কর খুবই শক্তিশালী, এটা আমি বিশ্বাস করি। তারা যদি সঠিকভাবে কর প্রদান করেন, তাহলে দেশের অগ্রগতি হবেই। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলে গেছেন, ধনীদের কাছে থেকে কর আদায় করে গরীবদের উন্নতি করো।

সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববাদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বাজেটে একটা থোক বরাদ্দ করা দরকার। সেই টাকা দিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে পিএইচডি বা উচ্চ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা নিজেদের গুণগত মান বাড়াতে পারবেন।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, এবার বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমূখী বাজেট দেখতে চাই। আমাদের দেশে বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা নাই। এটি না থাকলে বিনিয়োগকারী কখনই বিনিয়োগে উৎসাহ পান না। যিনি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে যদি দ্রুততম সময়ে গ্যাস, বিদ্যুত সংযোগ স্থাপনে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাজ্জাক বলেন, ভ্যাট আইন নিয়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা যতটুকু উদ্বিগ্ন, ততটা হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ ভ্যাট আইন কারও উপর চাপ তৈরি করবে না।

বিআইডেএসের সিনিয়র গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, শুধু ঋণ আর প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীর অগ্রগতি সম্ভব হবে না। তাদের অগ্রগতির জন্য আনুষাঙ্গিক সুবিধা দিতে হবে। যেমন ডেকেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে হবে, যাতায়াতের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, নারীদের জন্য ব্যাংকে ১৫ শতাংশ এসএমই ঋণের বরাদ্দ আছে। কিন্তু উত্তোলন করা হচ্ছে মাত্র ৪ শতাংশ। অর্থাৎ ঋণ আছে, কিন্তু নেয়ার মানুষ নেই।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সবাই বলেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। কিন্তু আমি মনে করি বিষয়টি উল্টো। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসলেই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে ভিশন-২০২১, ভিশন ২০৩০ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে ভিশন ১৯৭১ গেল কোথায়? সেটিকে ধামাচাপা দিয়ে নতুন নতুন ভিশন দেওয়া হচ্ছে।

এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, দেশের উন্নয়নের প্রথম ধাপে মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। আর এই বৈষম্য কমানোর দায়িত্ব সরকারের। এছাড়া প্রবৃদ্ধি বাড়াতে গেলেও বৈষম্য বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ছাড়া একটি দেশের বিনিয়োগ বাড়বে না। বর্তমানে দেশের আর্থিক অবকাঠামো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান অর্তনীতিবিদ ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় বেশি। তাই এই ভ্যাটের পরিমাণ কমানো উচিৎ বলে আমি মনে করি। এছাড়া ভোগ্যপণ্যের উপর আরোপিত ভ্যাটও কমানো উচিত। কারণ সাধারণ মানুষের আয়ের বেশির ভাগই ব্যয় হয় ভোগ্যপণ্যের পিছনে। এতে তাদের উপর ভ্যাটের চাপটা বেশি পড়ে।

আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ও বিআইডিএসের গবেষক বিরুপাক্ষ পাল।


সুত্রঃ আমাদের সময়

নিউজপেজ২৪/ এ বি