অর্থনীতি

জুন ৩, ২০১৭, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

পুরো বাজেটই উজ্জ্বল, কোথাও দুর্বলতা নেই

নিউজপেজ ডেস্ক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাজারে ভ্যাটের প্রভাব পড়বে না। ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করা হলেও এর কারণে পণ্যের দাম, ব্যাংকের গ্রাহকসহ অন্য খাতে যেসব কর আরোপ করা হয়েছে এতে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ যাদের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে, তারা সম্পদশালী। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট। এটি একটি উজ্জ্বল বাজেট। কোথাও দুর্বলতা নেই। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি জনকল্যানমূলক বাজেট। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ কারণে বাজেটে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্যবিমোচন, সমতা প্রতিষ্ঠা, সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর ব্যবস্থায় যে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাতে জনগণের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপবে না। যেটুকু কর দিতে হবে তার সক্ষমতা মানুষের ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

ভ্যাট প্রসঙ্গে বলেন, ভ্যাটের প্রভাব নিম্ন ও স্বল্প আয় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর পড়বে না। কারণ অনেক ক্ষেত্রে পণ্যে ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে ভ্যাটমুক্ত লেনদেনের সীমাও। আগে ভ্যাটমুক্ত লেনদেনের সীমা ৩০ লাখ টাকা ছিল। সেটি ৩৬ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ভ্যাটের আওতা থেকে বাইরে চলে গেছে। অন্যদিকে ৩ শতাংশ ভ্যাট ছিল ৮০ লাখ টাকা টার্নওভারের ওপর। সেটিকেও বাড়িয়ে দেড় কোটিতে উন্নীত করা হয়। এই সীমা পর্যন্ত ৪ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। আবার বিদ্যমান আইনে ৫৩৬টি পণ্য ভ্যাটের আওতামুক্ত ছিল; তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যে প্রভাব পড়বে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যবিমোচনে আমাদের বরাদ্দ ৫৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া লিঙ্গ সমতার জন্য ২৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশনের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে বৈদেশিক সহায়তা বেশি ধরা হয়েছে। এটা অনেক বেশি, তবে আদায় সম্ভব। গত কয়েক বছর বিপুল পরিমাণ সহায়তা আদায় করেছি। পাইপলাইনে অনেক টাকা রয়ে গেছে। ব্যবহার করতে পারছি না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে থাকে। এবার সে আলোচনা (রিভিউ) একটু বাড়াতে হবে।

এরপর শুরু হয় প্রশ্ন-উত্তর পর্ব।

প্রশ্ন : গত কয়েক বছরে দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ থাকলেও এবারের বাজেটে তা নেই?

মুহিত : ভিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে এ বাজেটে সামান্য বলা হয়েছে। দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা কম। তবে কিছু লোকের স্বভাব ভিক্ষা করা। এ জন্য এটি অব্যাহত রয়েছে।

প্রশ্ন : আপনি যেদিন বাজেট দিলেন, সেদিনই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য কী?

মুহিত : গ্যাসের দাম কিছুই বাড়াইনি, আগে যা ছিল তা-ই। বাজেটে আমি শুধু বলেছি, গ্যাসের দাম ২০১৮ সালে বাড়বে। আমদানি করা গ্যাসের ওপর আমাদের ব্যাপক নির্ভরতা বাড়বে। তখন এর দাম বাড়বে।

প্রশ্ন : ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে দেশ থেকে টাকা পাচারের পথ তৈরি হবে কিনা।

মুহিত : হ্যাঁ কর বাড়ানো হয়েছে। যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকার বেশি ডিপোজিট আছে, তাদের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, যাদের ১ লাখ টাকা আছে তারা সম্পদশালী। মূলত বড়লোক বা ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ের জন্য এই আবগারি শুল্ক দেওয়া হয়েছে।

আ হ ম মুস্তাফা কামাল : আবগারি শুল্কের কারণে টাকা বাইরে পাচার হবে না। বিনিয়োগকারীদের দেশের বাইরে বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টাকার ধর্ম মান যেখানে বাড়ে সেখানেই যাবে। ইতোমধ্যে অনেকেই সাউথ আফ্রিকায় বিনিয়োগ করছে।

প্রশ্ন : চালের মূল্য এক বছরের ব্যবধানে অনেক বেড়েছে। আপনি বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার পদক্ষেপ কী?

মুহিত : প্রস্তাবিত বাজেটের প্রভাবে চালের দাম বাড়েনি। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চালের বাজারে প্রভাব পড়েছে। তবে চালের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মতিয়া চৌধুরী : হাওর অঞ্চলের দুর্যোগের পাশাপাশি ফাল্গুন মাসে তাপমাত্রা খুব বেশি ছিল। সে কারণে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কিছু কম হয়েছে। তবে সরকারিভাবে বেশ কিছু চাল আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তা ছাড়া আমরা এখন বোরো ধানের পাশাপশি আউশ ধান চাষের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছি। চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। হাওরে বহু ফসল পানির নিচে চলে গেছে। আমরা কিছুদিন আগে ১০ টাকা দামে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করেছি। আগামী তিন মাস (ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক) আবারো একই দামে চাল দেওয়া হবে।

আমির হোসেন আমু : বাজারে চালের সংকট নেই। তারপরও চাল ও চিনির দাম বাড়ানো হচ্ছে। কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজ করছে।

প্রশ্ন : নতুন ভ্যাট আইনের কারণে পণ্যের মূল্য বাড়বে কিনা?

মুহিত : ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করা হলেও জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না। কারণ অনেক পণ্যে ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগে ভ্যাটমুক্ত লেনদেনের সীমা ৩০ লাখ টাকা ছিল। সেটি ৩৬ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ভ্যাটের আওতা থেকে বাইরে চলে গেছে। অন্যদিকে ৩ শতাংশ ভ্যাট ছিল ৮০ লাখ টাকা টার্নওভারের ওপর। সেটিকেও বাড়িয়ে দেড় কোটিতে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে ব্যাপক সংখ্যক ব্যবসায়ীর ভ্যাটহার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে নেমেছে। আবার বিদ্যমান আইনে ৫৩৬টি পণ্য ভ্যাটের আওতামুক্ত ছিল। সেটিকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যে প্রভাব পড়বে না

প্রশ্ন : গত বছরের বাজেটে ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সমতা প্রতিষ্ঠার কতটুকু এগিয়েছে দেশ?

মুহিত : সমতা অর্জনের হিসাব হাউসফুল সার্ভের মাধ্যমে করা হয়। এটি ৫ বছর পর পর করা হয়। নির্ভরযোগ্য হিসাব পেতে সময় লাগে। আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জরিপ করেছি। সে হিসাবে বর্তমান সরকার সমতা অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। দারিদ্র্যবিমোচনে সম্প্রতি যে অগ্রগতি হয়েছে, সেখানে হতদরিদ্রের হার বেশি।

প্রশ্ন : ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষা ক্ষেত্রে কি বৈষম্য তৈরি হবে না?

মুহিত : শিক্ষায় বৈষম্য দূর করতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ওপর ভ্যাটের বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। তবে ইংশিল মিডিয়াম স্কুলের ওপর ভ্যাট বসালে বৈষম্য হবে না।

প্রশ্ন : বিনিয়োগ বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ থাকছে?

মুহিত : বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হয়েছে। রপ্তানি আয় কমেছে। রেমিট্যান্স কম। রপ্তানি কমলেও প্রবৃদ্ধি ভালো। সরকারিভাবে রেমিট্যান্স বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেমিট্যান্স আয়ের অর্থ দেশে পাঠাতে বর্তমানে ব্যাংক ফি কাটা হয়। এখন থেকে আর কাটা হবে না। আগামী জুলাই থেকে এটা কর্যকর করা হবে।

বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর আমরা শুরু থেকেই চাপ দিয়ে আসছি। দেশের ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ হয় বেসরকারি খাতের ওপর। সরকারি মাত্র ২০ ভাগ। দেশের উন্নয়ন বেসরকারি খাত ছাড়া সম্ভব নয়। দুর্ভাগ্য বলতে রাজনৈতিক দুর্দশা। এটি ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিল। ২০১৫ সাল থেকে সেখান থেকে উন্নীত শুরু হয়েছে। তার ফলও পাচ্ছি। দেশে জ্বালাও-পোড়াও চলবে না। ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণ করবে এটি। এমন অবস্থায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ খারাপ নয়। তবে ভবিষ্যতে এই অবস্থার উন্নতি হবে। এতে আমাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

প্রশ্ন : করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

মুহিত : করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণে বিতর্ক অবসানে একটি নীতিগত দর্শন থাকা উচিত। মাথাপিছু আয়ের অনুপাত ও মূল্যস্ফীতিÑ এ দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারিত হতে পারে। বাংলাদেশে করমুক্ত আয়ের সীমা মাথাপিছু আয়ের ২০০ শতাংশের বেশি। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এ অনুপাত ১০০ শতাংশের মধ্যে থাকে। এ ছাড়া আমাদের মুদ্রাস্ফীতিও এ মুহূর্তে কম, ৫ শতাংশের মতো। ফলে আগামী বছরে করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ও করহারে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

প্রশ্ন : সিগারেটে করহারে বৈষম্য করা হয়েছে।

মুহিত : বিদেশি ব্র্যান্ডের কারণে দেশি সিগারেট কোম্পানিগুলোর বাজার ধরতে সমস্যা হচ্ছে। তাই বিদেশি সিগারেটের দাম একটু আলাদা রাখা হয়েছে। বিদেশি ব্র্যান্ড সহজে সবাই চেনে, কিন্তু দেশিটা অনেকেই চেনেন না। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে কম দামি দেশি সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ টাকা। আর বিদেশিটার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা।

প্রশ্ন : বাজেটে উজ্জ্বলতম এবং দুর্বলতম দিক কোনটি?

মুহিত : পুরো বাজেটই আমার কাছে উজ্জ্বল। কোথাও দুর্বলতা নেই।

প্রশ্ন : আবগারি শুল্কে ৫ কোটি টাকার ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু অর্থবিলে এটি ৩০ হাজার টাকা রয়েছে। কোনটি গ্রহণযোগ্য?

মুহিত : এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলবেন।

নজিবুর রহমান : বৈসাদৃশ্য আছে। বাজেট বক্তৃতায় যেটি আছে সেটিই গ্রহণযোগ্য।

প্রশ্ন : বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সরবরাহের মিল নেই।

মতিয়া চৌধুরী : আগে গ্রামে বিদ্যুৎ মোটেই ছিল না, তাই হিসাবও ছিল না। এখন আছে, তাই লোডেশেডিং। বাংলাদেশে কথা বলায় বিধিনিষেধ নেই। তাই এত কথা।

প্রশ্ন : বাজেট বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?

মুহিত : স্বস্তির বাজেট। অস্বস্তির কোনো কিছু মনে হয়নি। এটি আমার জীবনের সেরা বাজেট। প্রশাসন আমাকে সহায়তা করেছে। বাজেটের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন অবান্তর। আমরা চাই পারফরম্যান্স ভালো হোক। যেখানে ৯১ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার কোটিতে নিয়েছি, তাহলে কীভাবে বলব অদক্ষতা। এটি প্রশংসার বাজেট। সংবাদ মাধ্যমেরও প্রশংসা করা উচিত।

প্রশ্ন : বাজেটের উপসংহারে বলেছেন দল, মত, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে মিলে সামনে এগিয়ে চলার কথা। এ বিষয়ে আপনি কী নির্দেশনা দিয়েছেন?

মুহিত : অবশ্যই দলীয় ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। উচ্চাভিলাষী এই বাজেট অবশ্যই আওয়ামী লীগের। তবে আমাদের এই বাজেটের মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ। আর এই জনকল্যাণে শামিল হওয়ার জন্য আমার বাজেট বক্তৃতায় দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এবার পরিস্থিতি ভালো। তাই একটু বেশি বলেছি। বাজেটে জণকল্যাণ ছাড়া কিছুই হতে পারে না।

প্রশ্ন : ব্যাংক খাতে লুটপাট হচ্ছে। কিন্তু সে বিষয়ে সংস্কারের কোনো কথা বলেননি।

মুহিত : ব্যাংক খাতে চুরি-চামারি সব দেশেই হয়। এটা আমাকে হজম করতে কষ্ট হচ্ছে। হয়তো আমাদের দেশে এর পরিমাণ বেশি। তবে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন : কালো টাকা সাদার বিধান অব্যাহত রাখা হয়েছে। অথচ দুদক কালো টাকার উৎস অনুসন্ধান করে। এ বিষয়ে আপনি কী ভাবেন?

মুহিত : বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়নি। কারো টাকা অপ্রদর্শিত থাকলে তা এনবিআরের আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে শুল্ক দিয়ে সাদা করা যাবে সারা বছর। এ সুযোগ বহাল আছে।

সূত্রঃ আমাদের সময়


নিউজপেজ২৪/ এ বি