আন্তর্জাতিক

জুন ১৮, ২০১৭, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

লন্ডনে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮, চাপে সরকার

নিউজপেজ ডেস্ক

লন্ডনে গত বুধবার ভোরে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্রিটেনে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ও ক্রোধ ক্রমেই বাড়ছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের সময়মত সাহায্য করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রীটের সামনে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।

পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, অগ্নিকান্ডের পর কেনসিংটন এলাকায় গ্রেনফেল টাওয়ারের অন্তত ৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছে এবং মনে করা হচ্ছে তারা সবাই মারা গেছে। তিনি বলেন, এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে, এবং অনুসন্ধান কাজ শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ডাউনিং স্ট্রিটে অগ্নিকান্ডের শিকার ও ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকর পর স্বীকার করেছেন, ঘটনার পর দুর্গত লোকদের সহায়তা ও তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে যা করা হয়েছে তা যথেষ্ট ছিল না। তিনি তিন সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছাকাছি এলাকায় বাড়ির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

বিক্ষোভকারীরা এই ঘটনাকে দেখছেন সমাজের দরিদ্রদের প্রতি ধনী এবং ক্ষমতাবানদের অবহেলা এবং উদাসীনতার এক চরম নজির হিসেবে, গ্রেনফেল টাওয়ারের বাসিন্দারা যার মূল্য দিয়েছেন আগুনে পুড়ে মৃত্যুর মাধ্যমে।

এ ঘটনার শিকার মানুষের জন্য যথেষ্ট সহমর্মিতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দুদিনের একটানা অভিযোগের পর দুর্গতদের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন টেরেসা মে। কিন্তু তাতে ক্ষোভ বা সমালোচনা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে রানি এলিজাবেথ তার জন্মদিনে এক বিবৃতিতে এ ঘটনার পর ব্রিটেন যে দুঃসময় অতিক্রম করছে, তা স্মরণ করেছেন।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, বিক্ষোভকারীরা যদিও এখন পর্যন্ত রাজপরিবারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেনি, কিন্তু সামনে যে এ নিয়ে অসন্তোষ আরও বাড়বে, সে ব্যাপারে তারা সচেতন। সে কারণেই হয়তো, কোন রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও রাণী এই বিবৃতি দিয়ে ঐক্যের ডাক দিতে চেয়েছেন।


নিউজপেজ২৪/ এ বি