অর্থনীতি

জুন ১৯, ২০১৭, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

আবগারি শুল্কের নাম পরিবর্তন করা হবে : মুহিত

নিউজপেজ ডেস্ক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আবগারি শুল্কের নাম পরিবর্তন করা হবে। একই সঙ্গে এ শুল্কের হার কমানো হবে। আবগারি শুল্ক নিয়ে নানা ধরনের কথা হচ্ছে। এটা নিয়ে যখন এত কথা হচ্ছে, তখন বাজেট পাস করার সময় শুল্কের হার পরিবর্তন করা হবে।

সচিবালয়ে গতকাল রোববার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

মুহিত বলেন, বাজেটের ওই প্রস্তাব নিয়ে বাজারে এত চিৎকার হচ্ছে যে, সবাইকে স্বস্তি দিতে আগেই পরিষ্কার করলাম। কথাটা বললাম এ জন্য যে, পার্লামেন্টে বলতে আমার অনেক দেরি হবে। পার্লামেন্টে বলতে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলে যাবে। তার আগেই যাতে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস অনেকে ফেলতে পারে, সে জন্য কথাটা বললাম।

মুহিত আরও বলেন, আমাদের আর্থিক খাত নিয়ে বাজারে অনেক সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে বাজেট দেওয়ার পরে সমালোচনা উচ্চপর্যায়ে উঠেছে। অনেক সময় হয় কি, যখন আর কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন একটা কিছু বের করতে হয়। সেটা এবার সবচেয়ে বেশি হয়েছে। যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর সো-কল্ড আবগারি শুল্ক আদায় করা হয়। নামটা আমরা পরিবর্তন করব। ইনকাম ট্যাক্সের আদলে কিছু একটা নাম দেওয়া হবে।

আবগারি শুল্ক নিয়ে নতুন প্রস্তাবে নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধা করে দেওয়া হয়েছিল। বহুদিন থেকেই যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, তারা এ শুল্ক দিয়ে থাকে। এবার রেট একটু বেড়েছে কিন্তু সুযোগও বেড়েছে। আগে ২০ হাজার টাকা থাকলেই দিতে হতো। এবার আমরা একেবারে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছি। তার পরও এটা নিয়ে বাজারে খুবই সমালোচনা হচ্ছে।

এর আগে মানিলন্ডারিং নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান, বিএসইসির কমিশনার আমজাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে মুহিত বলেন, মানিলন্ডারিং নিয়ে আগে বেশি বৈঠক হতো। এখন একটু কমে গেছে। আগের চেয়ে মানিলন্ডারিং কমে গেছে। এ ধারা যাতে অব্যাহত থাকে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। গত বছর আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে হয়নি। আগামী ২০২০ সালে আবার বাংলাদেশে এ সম্মেলন হবে।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। এ জন্য ওই বছর এ ধরনের আয়োজন করা কঠিন হবে। তাই ২০২০ সালের সম্মেলনে হোস্ট হবে বাংলাদেশ।

টাকা পাচার বন্ধে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পাচার তো হয় কালোটাকা আছে বলে। কালোটাকার সুযোগ যাতে বন্ধ হয়, সে জন্য আমরা অভিযান শুরু করব। জমি নিবন্ধন কালোটাকা উৎপাদনের একটি বড় উৎস। যে দামে জমি বিক্রি হয় প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে তার দশগুণ পার্থক্য। সুতরাং নয়গুণ কালোটাকা হয়ে যায়। এই ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কালোটাকা বাড়ছে বেশ কিছু আইন বা বিধির কারণে। তাই টাকা পাচার বন্ধে, অর্থাৎ উৎস বন্ধে আইন বা বিধির সংস্কারসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অনত্যম হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় জমির দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে জমি কেনাবেচা হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রি করা হয় সরকারনির্ধারিত মূল্যে। তাই এলাকাভিত্তিক নির্ধারিত মূল্য তুলে দিয়ে তা বাজারভিত্তিক করে দেওয়া হবে।


নিউজপেজ২৪/ এ বি