আন্তর্জাতিক

জুন ২২, ২০১৭, ৩:৪৬ অপরাহ্ন

কূটনীতিক গ্রেপ্তারে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশের ‘উদ্বেগ’

নিউজপেজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ও রাষ্ট্রদূত থমাস শ্যাননের সঙ্গে এক বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।

গৃহকর্মীকে নির্যাতন, শ্রমিক পাচার এবং মজুরি চাওয়ায় হত্যার হুমকির অভিযোগে গত সোমবার সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ। এর ৩৬ ঘণ্টা পর ৫০ হাজার ডলার বন্ডে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল কূটনৈতিক কর্মকর্তা হলেও সম্পূর্ণ ‘কূটনৈতিক দায়মুক্তি’র অধিকারী না হওয়ায় তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে পারেননি বলে বলেছিলেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি রিচার্ড ব্রাউন।

তবে গ্রেপ্তারের আগে তাকে ন্যূনতম কূটনীতিক সুবিধা দেওয়া হয়নি বলে প্রবাসীদের একটি পক্ষ বলছে, গ্রেপ্তারের মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাকে নোটিশ দেওয়া যেত, যা সচরাচর অন্যদেশের কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে করা হয়।

এরপর গৃহকর্মীকে ঠকানো ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে হামিদুর রশীদ (৫০) নামে জাতিসংঘের এক বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি অ্যানালাইসিস ইউনিটের প্রধান হামিদুর আড়াই লাখ ডলার বন্ডের বিপরীতে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের পাশাপাশি পাসপোর্ট জমা দিয়ে গ্রেপ্তারের সাত ঘণ্টা পর জামিনে মুক্ত হন।

আন্ডার সেক্রেটারি শ্যাননের সঙ্গে মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের সময় হামিদুর রশীদকে গ্রেপ্তারের তথ্য তখনও না পাওয়ায় বৈঠকে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উত্থাপন করেই পররাষ্ট্র সচিব উদ্বেগ জানান বলছেন প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমেদ।

ওই বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে শামীম বলেন, বাংলাদেশি কূটনীতিকদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা অনুপযোগী। তাই বাংলাদেশ আশা করছে এ বিষয়টির অবসানে সংশ্লিষ্ট সকলে আন্তরিক অর্থে মনোযোগী হবেন।

বন্ধুপ্রতিম দুটি রাষ্ট্রের মধ্যকার বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েই ডেপুটি কনসাল জেনারেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তিতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা পোষণ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব।

গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের এটিই প্রথম বৈঠক।

দুদিনের সফরের প্রথম দিনের এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও আন্ডার সেক্রেটারি থমাস শ্যানন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের সময়েও উত্তরোত্তর বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন শ্যানন।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমেদ জানান, চলতি বছরের শেষে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের ষষ্ঠ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আন্ডার সেক্রেটারি শ্যাননকে আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্র সচিব। শ্যানন তা গ্রহণ করে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সকলে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ওই সংলাপের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।


নিউজপেজ২৪/ এ বি