সারাদেশ

জুলাই ৯, ২০১৭, ১২:১৪ অপরাহ্ন

দল ক্ষমতায় থেকেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী করবে

নিউজপেজ ডেস্ক

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেই ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের আশাও তার।

গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতাই উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে উদযাপন করবে এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ১০ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তখন নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবারও জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের উন্নয়ন। এর বাইরে যখনই যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে জনগণ কীভাবে ও কাকে চায়।

সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে জনগণ উন্নয়নের সুফল পায় না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জানে, এটি প্রমাণিত। এটি মাথায় রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে যেসব কাজ হাতে নিয়েছি, সেসব বাস্তবায়ন করেছি। যেসব মেগাপ্রকল্প হাতে নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে আরও একটার্ম ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন।

নির্বাচন জনগণের সাংবিধানিক অধিকার মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আমরা এ বছর দেশের সর্ববৃহৎ বাজেট দিয়েছি, এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামীতে আরও বড় বাজেট দিতে পারব।

দলের নেতাকর্মীদের জনসংযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন এলেই বিএনপি নানা রকম টালবাহানা শুরু করে। ২০১৪ সালে তারা নির্বাচনে যায়নি, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু জনগণ যাতে ভোট দিতে না পারে, সে জন্য মানুষ হত্যা করেছিল। তার আগে ৫৮২ স্কুল পুড়িয়েছিল। তারা যে মানুষ হত্যা করেছে পুড়িয়ে পুড়িয়ে, নিশ্চয়ই সেটি বাংলাদেশের জনগণ ভুলে যায়নি, ভুলে যাবে না।

প্রায় এক ঘণ্টার বক্তব্যে শেখ হাসিনা একাধিকবার বিএনপি শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।

বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে বলেন, ওরা যে অত্যাচার করেছে আমরা তার কিছুই করিনি। আমরা তো প্রতিশোধও নিইনি। তার পরও তারা থেমে থাকেনি। নির্বাচন ঠেকানোর নামে সারা দেশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। আর ক্ষমতায় থাকতে এমন কোনো জেলা বাকি নেই যে, আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার হয়নি, খুন করেনি। আমার উপস্থিতিতে আমাদের অফিসে পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েছে। অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় আমাদের দলের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই সিলগালা করে দিয়েছিল। আমার বাসায়ও কয়েকবার হামলা করেছে। আর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের অফিসে তো সবসময় ব্যারিকেড দেওয়াই থাকত। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উদার বলে হয়তো অতীত ভুলে যান। আর বুদ্ধিজীবীরাও এগুলো ভুলে যান।

বিএনপি আমলে সারা দেশে যত জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সবার তালিকা তৈরি করার জন্য শেখ হাসিনা দলের সাংগঠনিক নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এগুলোর আর্কাইভ থাকা উচিত। সবার জানা দরকার। অতীত ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন সততার অভাবে কোর্টে হাজিরা দিতে যান না অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, সততার শক্তি থাকলে তো কোর্টে যেতে ভয় পাওয়ার কথা না। আমার নামে মামলা হয়েছে, আমি তো ভয়ে লুকাইনি। আর উনি মামলার ভয়ে কোর্টে যান না।

আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনে বিশ্বাসী মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের মালিক, জনগণ ভোট দেবে তার ইচ্ছানুযায়ী। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ এই স্লোগান কিন্তু প্রথম আমরাই শুরু করেছি। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আজকে দেশে মঙ্গা নেই, খাদ্যের অভাব নেই, ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। দেশের উন্নয়নের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। বিষয়টি নিয়ে আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিতর্কের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলীয় সংসদ সদস্যদের। নেতারা মনে করছেন, বিষয়টি সুরাহা হবে সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই। এ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এখনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের। রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বদর উদ্দীন আহমেদ কামরানকে।

আগামী নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন যখন নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে, তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে সবাই ভোটার হতে পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। দেশের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টিতে বন্যার খোঁজখবর নেওয়া হয় বৈঠকে। এ সংক্রান্ত একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের খোঁজ নিয়েছেন সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি এ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া শোকের মাস আগস্টের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয় কার্যনির্বাহী বৈঠকে।


নিউজপেজ২৪/ এ বি