সারাদেশ

জুলাই ১১, ২০১৭, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

ভাঙতেই হবে হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি

নিউজপেজ ডেস্ক

মাঝপথ দিয়ে রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি অপসারণে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। তাই অবিলম্বে সিঁড়িগুলো ভেঙেই ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ওরিয়ন কর্তৃপক্ষের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন।

আদেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি নেই। তাই ওইসব সিঁড়ি (ফ্লাইওভারের) অপসারণ করতেই হবে।

আদালতে ওরিয়ন গ্রুপের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষ মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সচিত্র প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছিলেন।

এর আগে গত ৩১ মে দুই সপ্তাহর মধ্যে মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দিয়েছিলেন। সড়ক ও সেতু সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার পুলিশ কমিশনার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ও হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে ওরিয়ন কর্তৃপক্ষ।

২৮ মে একটি ইংরেজি পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন নজরে এলে আদালত সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দেন। এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার জন্য ছয় থেকে সাতটি সিঁড়ি ও বাসস্টেশন অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন ব্যারিস্টার সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল।

রিটে বলা হয়, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে ওঠার জন্য ছয় থেকে সাতটি সিঁড়ি ও বাসস্টেশন আছে। এসব স্টেশনে বাস ও লেগুনা থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত তিন থেকে চার মাসে ফ্লাইওভারের ওপর ১০ জনের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া বাসস্টেশন থাকার কারণে প্রায়ই যানজট থাকে ফ্লাইওভারে। তাই বাসস্টেশন ও সিঁড়ি অপসারণ প্রয়োজন।


নিউজপেজ২৪/ এ বি