শিক্ষাঙ্গন

অক্টোবর ২৩, ২০১৭, ৫:২২ অপরাহ্ন

প্রশ্ন ফাঁস? নাকি ষড়যন্ত্র..!

এম তারেক আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ডি' ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে। এ নিয়ে একশ্রেণীর বিতর্কিত ঢাবি শিক্ষকই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন বলে দাবি করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা! এ বিষয়ে ঢাবি'র ভাবমূর্তি নষ্টে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান কঠোর ব্যবস্হা নেয়ার হুশিয়ারী ও দিয়েছেন। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কি না এ প্রসঙ্গে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডীন ড. সাদেকা হালিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, "পরীক্ষার আগের দিন সারারাত ডিন অফিস খোলা ছিলো। আমি সারারাত সেখানে ছিলাম। কই? তখন পর্যন্ত তো কোনো নিউজ আমার কানে আসেনি! কেন কোনো আপডেট দেয়া হলোনা ডিন অফিসে? কেনইবা কোনো নিউজ তৎকালীন সময়ে করা হলোনা? আমি প্রমাণে বিশ্বাসী। যারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে, তাদেরকে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে বলেছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো প্রমাণ আমাকে শো করতে পারেনি।" এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে কেঁচু খুঁড়তে গিয়ে কেউটে সাপ বের হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম নয়ন! তিনি এই প্রতিবেদককে আরো বলেন,"২০১৪-১৫ সেশনে আমরা যখন বি ইউনিটে ঢাবিতে পরীক্ষা দিই, তখনও কিছু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের নিউজ হয়েছিলো! কই? আমিতো ঠিকই চান্স পেয়েছিলাম! যদি এমনটাই ঘটতো, তবে গরীবের সন্তানেরা এইটুকু আসতে পারতোনা! যারা কিছু উপরি পাওনার আশায় উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এসব করছেন, তাদের আইডেন্টিটি নিয়ে আমার যথেষ্ট প্রশ্ন হয়!" ইব্রাহীম আপন এবং সোহাইল আহমেদ নামে আরো দুইজন শিক্ষার্থী জানান, "যে সকল শিক্ষক গুজব রটাচ্ছেন, শিক্ষকতার কোনো যোগ্যতা তাদের আছে কি না, আমরা সন্দিহান।"

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭১ হাজার ৫৪৯ জন, তাদের মধ্যে ১০ হাজার ২৬৪ জন ভর্তিযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। অপরদিকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৭৬ হাজার ৯৮৯ জন, তাদের মধ্যে পাস করেছিলেন ৭ হাজার ৫৬৬ জন।দুই বারের পরীক্ষার ইংরেজি অংশের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত শিক্ষাবর্ষের তুলনায় এবার ইংরেজিতে ২ হাজার ৬৯৮ জন শিক্ষার্থী বেশি পাস করেছেন। তবে ১৫ নম্বরের বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবার বেশি, ৪৬ জন।

পরীক্ষার আগের রাতেই ইংরেজি অংশের ২৫টির মধ্যে ২৪টি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়।এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সাদেকা যায় যায় কাল কে বলেন, “প্রশ্ন ফাঁসের চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ কেউ আমাদের দিতে পারেনি। এটি একটি গুজব ছিল এরকম একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।“তারা দাবি করেছে, ইংরেজি অংশটি প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু যখন আমি ফলাফল তৈরি দেখি, এই ফলাফলে কোনো ধরনের প্রভাব নাই।”
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজিতে ৮ থেকে ৯ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি প্রশ্ন ফাঁস হত তাহলে ২৫ থেকে ৩০ নম্বর পেয়ে হাজারে হাজারে ছেলে-মেয়ে পাশ করে আসত।”এবার ইংরেজিতে পাস করেছে অর্থাৎ পাস নম্বর ৮ থেকে ৩০ নম্বর পেয়েছে ১০ হাজার ২৬৪ জন। এদের মধ্যে ৩০ নম্বর পেয়েছে দুইজন, ২৮ পেয়েছে ১৪ জন, ৩০-২৫নম্বর পেয়েছে ৯৮ জন, ২০ থেকে ২৫ নম্বর নিচে পেয়েছে ৫৭৯ জন, ১৫ থেকে ২০ নম্বর নিচে পেয়েছে ২ হাজার ৪২৮ জন এবং ১০ থেকে ১৫ নম্বর নিচে পেয়েছে ৪ হাজার ৭৩৬ জন।আগেরবার ইংরেজিতে পাস করে ৭ হাজার ৫৬৬ জন। তাদের মধ্যে ৩০ নম্বর পেয়েছিল দুইজন, ২৮ পেয়েছিল ১৫ জন। এছাড়া ৩০-২৫ নম্বর পেয়েছে ১১৯ জন, ২০ থেকে ২৫ নম্বর নিচে পেয়েছে ৬৫৯ জন, ১৫ থেকে ২০ নম্বর নিচে পেয়েছে ২ হাজর ৩৮৩ জন এবং ১০ থেকে ১৫ নম্বর নিচে পেয়েছে ৩ হাজার ৪২৯জন। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঢাবি শিক্ষক যায় যায় কালের এই প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে আজ! গোটা কয়েক চাটুকার শিক্ষক তাদের ব্যক্তিগত ফায়দা লুটার জন্যই কেবল এসকল অপরাধমূলক কাজ করে যাচ্ছেন! শিক্ষকদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন্দল এবং কাদা ছুড়াছুড়ি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।