শিক্ষাঙ্গন

অক্টোবর ২৪, ২০১৭, ৪:১৮ অপরাহ্ন

প্রশ্ন ফাঁস ষড়যন্ত্র! নেপথ্যে : ঢাবি শিক্ষক

এম তারেক আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ক্ষমতাচ্যুত-বিকৃত মস্তিষ্কের কিছু শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে কাঁদা ছুড়াছুড়ির রাজনীতি। D ইউনিটের পরীক্ষার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নব নিযুক্ত ডীন, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের বানোয়াট অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে সাধারন শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের এরকম বিতর্কিত আচরণে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশ্নবিদ্ধ পুরো জাতি। ১৯২১ সাল থেকে যে বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে পথ দেখিয়ে আসছে, সে বিশ্ববিদ্যায়ের কতিপয় শিক্ষক যদি গদিতে বসার আশায় এরকম অসত্য, বানোয়াট এবং মনগড়া আচড়ণ করেন, তবে শিক্ষক হিসেবে তাদের কোনো যোগ্যতা থাকতে পারেনা! এদিকে প্রতিবেদক আমান উল্লাহ আমান কতৃক প্রস্তুতকৃত ক্যাম্পাস টাইমস জার্নালে উঠে এসেছে প্রশ্ন ফাঁস ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের কিছু পয়েন্ট। টাইমসের মতে, ক্যাম্পাসকে অস্তিতিশীল করার পেছনে দায়ী কিছু ছাত্র সংঘটন। ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা রেজাল্ট প্রকাশের দিন বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসনিক ভবনে যায়। সেখানে উপাচার্যের কার্যলয়ে ঢোকার দুটি কলাপসিবল গেটই তালা বদ্ধ ছিল। মিছিলকারীরা তালা ভেঙ্গে উপাচার্যের অফিসের দরজার সামনে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে বলে উল্লেখ করা হয় জার্নালে। সাগর বলেন, বিক্ষোভের নের্তৃত্ব দেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব, ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সভাপতি নাইমা খালেদ এবং ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

আন্দোলনকারীরা উত্তেজিত হয়ে গেলে নবনিযুক্ত প্রক্টর প্রফেসর এ কে এম গোলাম রব্বানী তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান তাঁর কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিক্ষোভকারীরা ২০১৫ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের উদাহণ টেনে বলেন, ওই বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাচকে কলঙ্কজনক ব্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করে। এবং ওই ব্যাচকে কেউ স্বীকার করতে চায় না। সুতরাং আমরাও চাইনা ওই রকম পরিস্থিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় তৈরি হোক। তাই পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

জবাবে উপাচার্য এই আন্দোলনের সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কলঙ্কজনক অধ্যায় না ঘটুক সে বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য আন্দোলনকারীদের ধন্যবাদ। তবে দু:খজনক বিষয় হচ্ছে দুটি কলাপসিবল গেট ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ না করে তাঁকে খবর দিলে তিনি তাদের সাথে গিয়ে দেখা করতেন।

প্রশ্ন ফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, আমাদের ফলাফল প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ইঙ্গিত দেয়না। আর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কেউ গ্রেফতার হয়নি। গ্রেফতার হয়েছে ডিভাইস সরবরাহ কাজে জড়িত থাকার দায়ে।

তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি তাঁকে জানানো হয় শুক্রবার দুপুর পৌনে দুইটায়। যদি সকাল নয়টায়ও জানানো হতো তাহলে ব্যবস্থা নিতো প্রশাসন। মেইলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রাত ২:৫৫ বা ৩:১৯-এ মেইলের মাধ্যমে প্রশ্ন পাওয়ার যে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় তা ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দারা আরো বলেছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এরকম করা সম্ভব। সুতরাং পরীক্ষা বাতিলের মতো এতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার উপাচার্যের নাই। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলে তারা এমন কিছু ক্লু পেয়েছেন বলে দাবী করেন যাতে প্রকৃত অপরাধী বেড়িয়ে আসবেন বলে তিনি জানান।

আর প্রকৃত অপরাধী যে সংগঠনের হোক , যে পদধারী হোক তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন। এবং বলেন, সাইবার অপরাধ ইউনিটের কাছে সকল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সুতরাং প্রকৃত অপরাধী বেড়িয়ে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নাই। যারা প্রশ্নের ছাপ ব্যবহার করেছে তাদের শুধু একাডেমিক শাস্তি নয়, তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অফেন্স হবে বলে আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেন। পরিশেষে তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের গোড়ায় প্রবেশ করা একজন উপাচার্য হিসেবে তাঁর নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতো কিছু বলার পরও বিক্ষোভকারী বাম সংগঠনগুলো উপাচার্যের সকল কথা প্রত্যাখ্যান করে এবং তাঁর সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করে সেখান থেকে চলে যায়। সেখানে উপস্থিত একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর কথা হলো, "দুনিয়ার মজদুর এক হও,লড়াই কর", ''জালো জালো আগুন জালো'' এ আওয়াজটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বামদের মিছিল থেকে প্রায়ই শোনা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ওরা মজদুর কই পায়? আর ওদের মিছিলে থাকে গুটিকয়েক ছাত্র। অতীতে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাহিরের ভাড়াটে লোক এনে ক্যাস্পাসে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে দেখা গেছে। তাহলে ওদের উদেশ্য কি শুধু জ্বালাও-পোড়াও এর স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসে ঝামেলা করা নাকি ভুঁইফোড় বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে আড়ালে অন্যকিছু অর্জন করার চেষ্টা করা। বামদের আস্ফালন দেখলে মনে হয়, এ ক্যাম্পাস শুধু গুটিকয়েক বামদে নেতাদের।ক্লাস পরীক্ষাসহ সময় অসময়ে তাদের এসব কর্মকান্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ।

ফলাফল প্রকাশে দেখা যায়, এবার ইংরেজিতে ৮ থেকে ৩০ নম্বর পেয়েছে ১০ হাজার ২৬৪ জন। এদের মধ্যে ৩০ নম্বর পেয়েছে দুইজন, ২৮ পেয়েছে ১৪ জন। যদি প্রশ্ন ফাঁসই হতো তাহলে ৩০ এ ৩০ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরো বেশি হতো।

সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও তার ইতিহাস ঐতিহ্যকে নষ্ট করার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। যার পেছনের কারিগর হিসেবে কাজ করছে পদ বা পদবী হারানো কিছু শিক্ষক এবং সস্তা জনপ্রিয়তা প্রত্যাশী এবং অধিক কাটতি বাড়ানো লোভী কিছু সংবাদ মাধ্যম। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমনটাই দাবী।

" সকল কাদা ছুরাছুরি আর আভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই প্রশ্ন ফাঁস গুজবের নেপথ্য নায়ক হিসেবে দেখছেন ঢাবি'র সাধারণ শিক্ষার্থীরা! দাবি উঠেছে, বিতর্কিত শিক্ষকদের বহিষ্ককারের"