প্রবাস

জানুয়ারী ৯, ২০১৮, ৪:২৩ পূর্বাহ্ন

সৌদি আরবের জিজানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ বাংলাদেশী নিহত

ব্যুরোচীফ (সৌদি আরব পূর্ব)

সৌদি আরবের সীমান্ত ঘেষা জিজান এলাকায় সড়ক দুঘটনায় ১০ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক।

শনিবার সকালে জেদ্দা থেকে ৮০০ কিলোমিটার দুরের ইয়েমেন সীমান্ত এলাকায় এদুঘটনাটি ঘটেছে।
গতকাল গতকাল রোববার জেদ্দা কন্সুলেট অফিস থেকে দুঘটনার সংবাদ জানানো হলেও নিহত ও আহতদের নাম ঠিকানা না উল্লেখ করেই সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে রওয়ানা হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে একটি ট্রাকে করে ২০ জন বাংলাদেশী বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্য রওয়ানা হন। গাড়িটি ওয়েস্টার্ণ প্রভিঞ্চ অফ জিজান এলাকায় যাওয়ার পরই হঠাৎ পেছনে থেকে একটি ভেহিকেল জোরে ধাক্কা দেয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। ঘটনাস্থলে গাড়িতে থাকা ৮ জন নিহত হন। আশংকাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরো ২জনকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন।

নিহতরা সবাই বাংলাদেশী বলে নিশ্চিত করা হলেও আহত কতজন রয়েছেন তা উল্লেখ নেই। তবে চিঠিতে বলা হয় দুঘটনাস্থল জেদ্দা থেকে ৮০০ কিলোমিটার দুরে। জিজান শহরটি হচ্ছে সৌদি ও ইয়েমেন সীমান্ত এলাকায়।

এদিকে সৌদি আরবের জেদ্দা কনসাল জেনারেল এফএম বোরহান উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একটি লরিতে করে বাংলাদেশীরা কাজে যাচ্ছিলেন। তখন পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে এই দুঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল ইয়েমেন সীমান্তের কাছে হওয়ায় জায়গাটি বেশ দুর্গম। আমরা সেখানে কর্মকর্তা পাঠিয়েছি। তারা গিয়ে হাসপাতাল ও পুলিশের সাথে দেখা করে নিহত ও আহতদের নাম জানাবে এবং দুঘটনার কারণ জেনে মামলা দায়ের করবে।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্র নালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, কিভাবে আসলে ঘটনাটি ঘটলো সেটি জানার পরই বিস্তারিত জানানো যাবে।

নিহতদের পরিবারের চাওয়া অনুযায়ী দ্রুত লাশ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য দূতাবাস থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

এফ এম বোরহান উদ্দিন বলেন, “সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নিহতদের পরিবারকে বীমার টাকাসহ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিবে। তাছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়ির মালিক ৩ লাখ রিয়াল (সাড়ে ৬ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।”

নিহতদের মধ্যে সাত বাংলাদেশির পরিচয়ঃ

১। মোহাম্মদ ইডেন মিয়া, পাসপোর্ট নং BJ 0232065 পিতাঃ সিরাজ মিয়া, গ্রাম: বীরগাঁও, ওয়ার্ড- ৮, থানা: আলোকবালি, নরসিংদী সদর, জেলা: নরসিংদী।

২। সফিকুল সিকদার, পাসপোর্ট নং BP 0472853 পিতা: আব্দুল হামিদ, গ্রাম: কস্তূরী পাড়া, উপজেলা: কালিহাতি, জেলা: টাঙ্গাইল।

৩। আমির, পাসপোর্ট নং BH 0060807 পিতা: আবু মিয়া, গ্রামঃ বাউসিয়া, করিমপুর, নরসিংদী সদর, জেলা: নরসিংদী।

৪। মোহাম্মদ দুলাল হোসাইন, পাসপোর্ট নং BJ 0878623 পিতা: আকবর আলি, গ্রাম: বালকদি, শহিদনগর, উপজেলা: কামারকান্দি, জেলা: সিরাজগঞ্জ,

৫। মতিউর রহমান, পাসপোর্ট নং AF 8297928 পিতা: মোহাম্মদ আলি, গ্রাম: ননেরটাক, ওয়ার্ড নং- ০১, আনন্দবাজার, উপজেলা: সোনারগাঁ, জেলা: নারায়ণগঞ্জ।

৬। আমিন মিয়া, পাসপোর্ট নং BL 0318082 পিতা: রহিম মিয়া, গ্রাম: ডুবাইল, জামুরকি, উপজেলা: দেলদুয়ার, জেলা: টাঙ্গাইল,

৭। জসিম উদ্দিন, পাসপোর্ট নং BH 0294219 পিতা: আবুল কাসেম, গ্রাম: চরহাজিপুর, বিরাজপুর, উপজেলা: হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।



নিউজপেজ২৪/ এন এ

আরো খবর