সম্পাদকীয়

জানুয়ারী ১, ১৯৭০, ৬:০০ পূর্বাহ্ন

গাছ লাগিয়ে প্রকৃতিকে মানুষের উপযোগী রাখুন

বর্ষা এলেই সবুজ প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও সবুজ। সবুজে সবুজে ভরে যায় চারিধার। কথাটা বোধ হয় গ্রামের জন্য ঠিক হলেও শহরের জন্য কিঞ্চিৎ বেমানান। কারণ ইট-পাথরের এ নগরে সে সবুজ কোথায়? যা দেখে প্রশান্তিতে ভরে উঠবে চোখ! এ কথা আমাদের সবারই জানা, গাছ পরিবেশের বন্ধু। গাছ আমাদের নানাভাবে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু এ কথা কি শুধু বই-পুস্তুকে থাকবে? বাস্তবে কি আমরা তার বাস্তবায়ন ঘটাব না?

জুন-জুলাই হলো গাছের চারা লাগানোর প্রকৃত সময়। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এ তিন মাস হলো চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। এ সময় বৃক্ষের চারা কিংবা বীজ খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। সবুজের মাঝে বেঁচে থাকার ইচ্ছে আমাদের সবার। তবে নিজ হাতে গাছ লাগানোর মতো ঝক্কি-ঝামেলা খুব কম লোকই সহ্য করতে পারেন। বিশেষত শহুরে চাকরিজীবীদের জন্য তা আলবৎ অসম্ভব! এটা গড়পড়তা হিসাবের কথা। শৌখিন লোকদের কথা ভিন্ন। অনেক বৃক্ষপ্রেমিক ও প্রকৃতিপ্রেমিক আছেন, যারা সারা বছরই পড়ে থাকেন গাছের পেছনে।
অনেকে আবার নাক উঁচু করে বলেন, গাছ লাগাতে তো চাই; কিন্তু সে জায়গা কোথায়? জায়গা আছে। আপনার বাসার ছাদ কিংবা ছোট্ট বারান্দায় গড়ে তুলতে পারেন চির সবুজের সিংহাসন। বারান্দার রেলিংয়ে ঝুলিয়ে দিতে পারেন ছোট্ট টবের লতা-গুল্ম। খাবার টেবিলের এক কোণে স্থান দিন পানিতে বাঁচতে পারে এমন কোনো গাছ। ছাদে লাগাতে পারেন ফুল, ফল, ভেষজ, মশলা কিংবা ওষুধি গাছ। বড় টবে বা ড্রামে লাগাতে পারেন পেয়ারা, কুল, আম, স্ট্রবেরি, ডালিম, লেবু ইত্যাদি ফলের গাছ। আর সৌন্দর্যের প্রধান অনুষঙ্গ বাহারি ফুলের গাছ তো লাগাবেনই।

সারা দেশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নার্সারি। আপনার এলাকাতেই হয়তো রয়েছে বড় কোনো নার্সারি, যা আপনার জানা নেই। একটু খোঁজ নিলেই পাবেন নার্সারির ঠিকানা। ঢাকাবাসীর জন্য বৃক্ষের বাহারি চারার পসরা সাজিয়ে অপেক্ষায় আছে দোয়েল চত্বর, নিউমার্কেট, আগারগাঁও, শাহবাগ, বনানী, কাকলি, এয়ারপোর্ট রোড, মিরপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, সাভার, খামারবাড়ি, কমলাপুর ও গুলশানের নার্সারি দোকানিরা। জুন মাসজুড়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলবে জাতীয় বৃক্ষমেলা। ঘুরে দেখে আসতে পারেন অসাধারণ সব বৃক্ষের সমাহার। কিনে আনতে পারেন আপনার পছন্দের যে কোনো গাছ।

গাছ বেঁচে থাকে যত্নের ওপর। সকালের রোদ গাছের জন্য খুবই উপকারী। দুপুরের রোদ গাছের জন্য ক্ষতিকর। ৮-১০ দিন পর পর মাটি একটু ওলট-পালট করে দিন। এতে মাটির ভেতর জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস বের হয়ে যাবে। নিয়মিত গাছে পানি দেবেন। সকালে এবং বিকালের রোদ পড়ে গেলে পানি দিন। সরাসরি গাছের গোড়ায় না দিয়ে চারপাশে আস্তে আস্তে দিতে হবে। লালচে হয়ে যাওয়া পাতা আলাদা করে দিন। গাছের টব পরিবর্তন করার সময় শিকড় যাতে ছিঁড়ে না যায় সেদিকে নজর রাখুন।