সম্পাদকীয়

অক্টোবর ১০, ২০১৩, ৪:০২ অপরাহ্ন

জনগণকে জিন্মি করবেন না

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে হাঙ্গামা প্রায় ওরশের মত রুটিন ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার সুযোগে বারবার গণবিরোধী তৎপড়তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখেছি আমরা। ক্ষমতার নগ্ন প্রতিযোগিতা মানুষকে শঙ্কিত করে তুলছে ক্রমাগত। জনগনের বিবেচনার প্রতি শ্রদ্ধা হারালেই এমটি হয়। বাংলাদেশের জনগনের মধ্যে ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রশ্নে যে বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে তা আমাদের সম্মিলিত ঐক্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এই বিভাজনের মধ্যে জনগণকে ঠেলে দিয়ে ক্ষমতার রাজনীতির চর্চা আমাদের কে ভয়ানক পরিণতির দিকেই নিয়ে যাবে। বিভাজনের ভেদরেখায় জনগণকে জিন্ম করে বহিঃশক্তির মদদতাড়িত হয়ে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় নানা হবে আর্ন্তঘাতি। জনগণ এই আর্ন্তঘাতি প্রবণতা রুখে দাঁড়াতে সক্ষম বরাবরাই। রাজনীতিবিদদের এই কথাটি ঘন ঘন মনে করিয়ে দেওয়া সৎ মিডিয়ার দায়িত্ব হলেও মিডিয়ার এই গণমূখি ভূমিকা চোখে পড়ছে না।
ফলে পরিস্থিতি হয়ে দাড়িয়েছে এমন যেন, উত্তপ্ত কড়াইয়ের সামনে গোটা জাতি দাড়িয়ে আছে। আর প্রবল প্রতাপে দানবের থাবা ধেয়ে আসছে তাদের অগ্নিময় কড়াইয়ে পুড়ে দিবার জন্য। জনগণকের কেবল মাত্র সংখ্যা মনে করার ফলেই এমটা ঘটছে। যে কোন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সবসময়ই জনগণের স্বাধীন ইচ্ছার উপর ভরসা রাখে। জনগণের ইচ্ছার সাপেক্ষেই রাষ্ট্রনীতি ঠিক করা হয়। এখানে কতিপয় গোষ্ঠি বা নিজ নিজ পার্টির প্রয়োজনে গোটা রাষ্ট্র বা জনগণকে জিম্মি করে কেউ কোন দিন টিকে থাকতে পারেনি। তাই আমরা মনে করি জুলুমের রাজনীতির কোন ভবিষ্যৎ নাই। গণ আকাঙ্খার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক আচরণে যদি নিজেদের স্বার্থহানিও হয় তা মেনে নেওয়াই ভবিষ্যৎ মূখির চিন্তা চেতনার পরিচায়ক। যে কোন প্রকার জবরদস্তি আমাদের কে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই সহনশীলতার আদর্শকে বিনা তর্কে মেনে নিয়ে জনগণকে স্বস্তিকর জীবন যাপনের সুযোগ করে দেওয়াই হবে বিচক্ষণ রাজনৈতিক সীদ্ধান্ত। আমরা জানি জনগণকে জিম্মি করে রাখা যায় না।