সম্পাদকীয়

অক্টোবর ২৬, ২০১৩, ২:০১ অপরাহ্ন

বৈরী সময়ে আস্থার সঙ্কট

রাজনৈতিক অস্থিরতায় জনমনে এতটুকু স্বস্তি নেই। বিশেষ করে ২৫ অক্টোবর প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার কারণে এবারের ঈদুল আজহার আনন্দ অনেকটা ফিকে হয়ে যায়। কী হবে ২৫ অক্টোবর- এমন শঙ্কায় তাড়িত ছিল সারাদেশের মানুষ।

এদিন রাজধানীতে বড় ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও দেশের বিভিন্নস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ও সংঘর্ষে নিহত হন অন্তত ৭ জন। একইসঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮ দলের সমাবেশ থেকে নির্বাচনকালিন সরকার ইস্যুতে সংলাপ না হলে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর টানা হরতালের ঘোষণায় ফের নতুন করে আতঙ্ক ভর করে জনমনে। সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্নস্থানে শোনা যায় ককটেলের শব্দ, আগুন দেয়া হয় যানবাহনে।

এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও বা সংঘর্ষ নতুন নয়। বলা যায় হরতালের সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড। ক্ষমতাসীনরা বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বলে উচ্চকিত থাকেন। কিন্তু কিছু সময়ের ব্যবধানে বিরোধী দলে গিয়ে একই আচরণকে তারা ‘জনস্বার্থে’ গণতান্ত্রিক অধিকার বলে শোর তোলেন।

হ্যাঁ অধিকারই বটে! তবে প্রশ্ন হচ্ছে কার অধিকার? কিসের অধিকার? নিরীহ মানুষকে বলির পাঠা বানিয়ে কার জন্য ‘দেশোদ্ধারের’ এ আন্দোলন তা বোধ করি এদেশের মানুষ কোনোদিনই জানতে পারবে না। সে ব্যাখ্যা রাজনীতিকরা কোনো দিনই দেবেন না।

একপক্ষ সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে মরিয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমানোর কৌশল বেছে নিয়েছেন। অন্যপক্ষ সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে ক্ষমতায় আরোহনের স্বার্থে বেপরোয়া। হরতাল-বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়ে তারা রাজপথ উত্তপ্ত করে তুলছে। কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দিতে রাজি নয়। আপসরফার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

প্রতিটি নির্বাচিত সরকারের শেষ পর্যায়য়ে দেশের জনগণকে একই নাটক দেখতে হয়েছে। টেনে-হিঁচড়ে না নামালে কেউ ক্ষমতা থেকে সরতে চায় না। বিষয়টি যারপরনাই শরমের হলেও আমাদের নেতা-নেত্রীরা এতে অভ্যস্ত। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জনগণ বড়ই অসহায়। কে ভাববে তাদের কথা। কে দেবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এই বৈরী সময়ে জনগণের আস্থার জায়গাটি তাহলে কোথায়!

আমরা মনে করি জনগণকে বোকা ভাবার যে ম্যানিয়ায় রাজনীতিকরা আক্রান্ত, তা শোধরানোর সময় এসেছে। কারণ এর আখের ফল মোটেই শুভ নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে বড় খেসারত রাজনীতিকদেরই দিতে হয়। নিকট অতীতেও এমন নজির রয়েছে। যে কারণে স্বার্থের রাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষকে আরও সহিষ্ণু ও নমনীয় হতে হবে। সঙ্কট উত্তরণে যত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাবে, দেশের জন্য, জনগণের জন্য ততই মঙ্গল।