খেলাধুলা

অক্টোবর ২৩, ২০১৭, ৫:২৫ অপরাহ্ন

গাজীপুরে ভূমি অধিগ্রহন অফিসে সার্ভেয়ার বেলালের এক যুগ

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মোঃআশরাফুল ইসলাম

গাজীপুর কালেক্টরেটের এল এ শাখায় বিভিন্ন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহনে ব্যাপক অনিময়, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পেছনে রয়েছে সার্ভেয়ার বেলাল হোসেন। বেলাল হোসেন একযুগ ধরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণ শাখায় সার্ভেয়ার হিসেবে থাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল দালাল সিন্ডিকেট।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এটাই নজীরবিহীন ঘটনা এক চেয়ারে এক যুগ। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের কালো বিড়াল। জালিয়াতির মাধ্যমে চালা জমিকে ভিটা শ্রেণী নতুন নির্মিত বাড়ী, দোকান ঘর, মূরগীর খামার ও পুকুর দেখিয়ে অধিগ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র। জেলা প্রশাসনের কয়েকজন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার এ ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। বর্তমান জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করলে দোষীদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডর চিত্রগুলো ফুটে উঠবে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কালিগঞ্জ থানার নাগরি ইউনিয়নের উলুখোলা ও কেটুল মৌজায় গাজীপুর- চট্রগ্রাম মহাসড়ক বাঁকা রাস্তা সোজা করণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। হুকুম দখল করা জমির একটি অংশ চালা ও নাল জমি থেকে অবকাঠামোর জন্য নতুন নির্মিত মূরগীর খামার, দোকান ঘর,বসত বাড়ি এবং পুকুরের মধ্যে নতুন নির্মিত তিনতলা বিল্ডিং দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্বসাতের পায়তারা চলছে। ওই মৌজাগুলোতে তৈরী করছে নতুন করে বিল্ডিং, বৃহৎকারে সাইন বোর্ড।
নির্মিত চার তলা বিল্ডিং ও সাইন বোর্ডের দুজন মালিক পংকজ ও মাখন চন্দ্র বিশ^াস জানান, আমরা স্কুল ভবন ও সাইন বোর্ড ভাড়া দেয়ার জন্য নির্মাণ করেছি। রাস্তা সোজা করণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রণ হয়েছে কিনা আমরা জানি না এবং কি নোটিশও পাই নাই। এরই মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমি, পুকুর ও অবকাঠামোর ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে। সার্ভেয়ার মো. ফারুক হোসেন,সার্ভেয়ার মো.জাকির হোসেন এবং সার্ভেয়ার বেলাল হোসেন সমন্বয়ে জমি তদন্ত করে দাগ ভিত্তিক চালা ও ভিটা শ্রেণীর দাগ সূচী প্রস্তুত করে প্রতিবেদন দেন। ওই জমির মধ্যে ইচ্ছা মাফিক বিধি বহির্ভূতভাবে মূরগীর খামার, বড় বড় সাইনবোর্ড ও তিন-চারতলা বাড়ী দেখিয়ে প্রাক্কলন প্রস্তুত করেন। এতে বাড়ী,মূরীর খামার ও দোকানঘর বাবদ সরকারের অর্থ গচ্ছা যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

জমি মালিকদের সাথে যোগসাজসে পানির মধ্যে তৈরী করেছেন বড় বড় বিল্ডিং। এসব অর্থ তুলে আত্বসাত
করা হবে বলে জানান একটি চক্র। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নালা জমিতে ভিটা বেধে সেখানে সারি সারি ঘর তোলা হয়েছে। ডাক্তার থেকে শুরু করে প্রভাবশালীরা একেক জনের নামে ৩ থেকে ৭টি করে ঘর তুলে ফেলে রেখেছে। বেশীরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে। গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সিন্ডিকেটের প্রতি সদস্য নামে বেনামে ৪-৫টি করে ঘর,দালান কোঠা তৈরী করছে বলে জানান একটি দালাল চক্র। বিগত কয়েক বছরে এলএ শাখায় ভূমি অধিগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতিসাধিত করেছে একটি চক্র। কালিগঞ্জ থানার টঙ্গী-ঘোড়াশাল রাস্তা প্রসারিত করণ প্রকল্পে দুবার্টি মৌজার জমির মালিক মো. নূরুল আলম আকন্দ জানান, উত্তরার হাজী মোস্তফা আমার দোকানের উপর অংশে ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড নির্মাণ করেছেন।